মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ সরকার,
এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (ACHR) – জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (UN ECOSOC) বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা সম্পন্ন একটি এনজিও – আপনাকে এই পত্রটি লিখছে। গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক সেমিনারে আপনার দেওয়া বক্তব্যে বিষয়ে আমাদের বিস্ময় প্রকাশ করছি। উক্ত সেমিনারে আপনি বলেছিলেন যে, ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের হুমকির’ কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে (CHT) মানবাধিকারের ১০০% সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) এক্তিয়ারের বাইরে রাখতে হবে।
এই সাধারণ পত্রের মাধ্যমে আমরা আপনাকে, জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার, ঢাকায় নিযুক্ত কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অফ ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনস (GANHRI)-এর চেয়ারপারসন, এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম অফ এনএইচআরআই-এর পরিচালক, বাংলাদেশে জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করছি যেন:
যখন নতুন সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে পরিণত হবে, তখন যেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এর আওতার বাইরে রাখা না হয়;
১৯৮৯ সাল থেকে তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং ১৯৯৮ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে নির্বাচন না দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের যে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তা সংশোধন করা হয়; এবং
বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবাধিকার ও আইনের শাসনের স্বার্থে নিশ্চিত করে যে কোনো সশস্ত্র গ্রুপ লালনকারী রাজনৈতিক সংগঠনকে যেন আইনত গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ পরিচালনা করতে দেওয়া না হয়।
সংক্ষেপে, এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস দুটি যুক্তিতে (যা তথ্য ও আইনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং বিচারিক পর্যবেক্ষণে টিকে থাকতে সক্ষম) বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক্তিয়ারের মধ্যে সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে:
প্রথমত, বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের কোনো হুমকি নেই কারণ ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পিসিজেএসএস-এর মধ্যে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহের অবসান ঘটেছে।[1] বর্তমানে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ক্রমাগত বাংলাদেশ সরকারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয়েছে। এর কারণগুলো হলো:
(১) ১৯৮৯ সাল থেকে জেলা পরিষদ এবং ১৯৯৮ সাল থেকে আঞ্চলিক পরিষদে নির্বাচন না দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করা এবং এর পরিবর্তে পিসিজেএসএস-এর সভাপতি ও একটি সশস্ত্র গ্রুপের নেতা জ্যোতিবিন্দ্র বোধিপ্রিয় লর্মা ওরফে সন্তু লর্মাকে গত ২৮ বছর ধরে নির্বাচন ছাড়াই আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রেখে আদিবাসীদের ওপর শাসন চালানো;
(২) ১৯৯৮ সাল থেকে রেকর্ড অনুযায়ী যেখানে ভারত সরকার তাদের মাটিতে পিসিজেএসএস-এর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ পিসিজেএসএস-কে তাদের সশস্ত্র বাহিনী রাখার এবং আঞ্চলিক পরিষদ চালানোর সুযোগ দিয়েছে;
(৩) পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো আদিবাসী রাজনৈতিক সংগঠন কখনো বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি করেনি; এবং পরিশেষে
(৪) Security Sector Reform প্রতিরোধ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামকে ব্যবহার করছে।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ২০০০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘ইন্টারন্যাশনাল কভনেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’ (ICCPR) অনুস্বাক্ষর করেছে।[2] সেজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার কমিশনের এক্তিয়ার থেকে বাইরে রাখতে পারে না। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি এমন কোনো “জনসাধারণের জরুরি অবস্থা নয় যা জাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে এবং যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।” এছাড়া ICCPR-এর অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী কিছু মানব অধিকার কোনো অবস্থাতেই খর্ব করা যায় না। তাছাড়া সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার কমিশনের এক্তিয়ার থেকে বাদ দেওয়া জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ‘প্যারিস প্রিন্সিপলস’-এর নীতি ২-এর উলঙ্গন করা।[3]
উপরোক্ত দুটি যুক্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
১. সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার কমিশনের আওতার বাইরে রাখা সংক্রান্ত বক্তব্য
১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস, বাংলাদেশ’ আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে আপনি বলেছিলেন:
“হিলট্রাক্টস এর বিষয়টা আলাদা আপনারা চিন্তা করে দেখেন। এখানে যদি আমরা ১০০% হিউমেন রাইটস ভাইওলেশনের বিষয়টা নজরে আনি, তাহলে আমাদের ডিফেন্স ফোর্সের জন্য অনেককিছু আমরা প্রয়োগ করতে দিতে পারবো না। অতচ দেখা যাবে ওখানে এমনকিছু বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা আর স্বাধীনতাকে নিশ্চিত রাখতে, অনেক সময় ডিফেন্স ফোর্সের অনেক বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে যেটা আবার হিউমেন রাইটস কমিশনে ১০০% নিয়ে আসি সেটা আরও বড় থ্রেট হয়ে যাবে।”[4]
২. পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা সার্বভৌমত্বের কোনো হুমকি নেই – এটি গণতন্ত্র অস্বীকার এবং সেনাবাহিনীর দ্বারা সৃষ্ট আইনশৃঙ্খলা সমস্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের কোনো হুমকি নেই। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ মাত্র ১৫ লক্ষ আদিবাসী মানুষের কাছ থেকে সার্বভৌমত্বের হুমকি অনুভব করছে – এটি কোনো নিষ্ঠুর কৌতুক নয়, বরং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর তৈরি করা পরিস্থিতির মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রাখার একটি অজুহাত মাত্র।
২.১. সশস্ত্র গ্রুপ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ওয়ার লর্ড সন্তু লর্মাকে গত ২৮ বছর ধরে নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় রাখা হয়েছে
পিসিজেএসএস ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং সন্তু লর্মা ১৯৯৮ সাল থেকে নির্বাচন ছাড়াই আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতায় আছেন। পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে সর্বশেষ এবং একমাত্র নির্বাচন হয়েছিল ১৯৮৯ সালের জুন মাসে তৎকালীন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের আমলে।[5] এরপর থেকে জেলা পরিষদ (১৯৮৯ থেকে) এবং আঞ্চলিক পরিষদে (১৯৯৮ থেকে) কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।[6]
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, পিসিজেএসএস-কে একটি সশস্ত্র গ্রুপ যা বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে[7] সক্রিয় সেটার অনুমতি বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে । অথচ সন্তু লর্মা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের ‘প্রতিমন্ত্রী’ পদমর্যাদা ভোগ করছেন।[8] এমনকি খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা বা তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেও তাদের রাজনৈতিক দলের জন্য এমন নিজস্ব সশস্ত্র গ্রুপ রাখার অনুমতি পান নি।
আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা ভোগ করার সময় পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে শত শত আদিবাসী নিহত হয়েছে। ‘ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট’-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের চুক্তির পর থেকে ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে ৬২৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩২১ জন ইউপিডিএফ (প্রসিত খীসা), ২০৪ জন পিসিজেএসএস (সন্তু লর্মা), ৮৬ জন পিসিজেএসএস (এম এন লর্মা), ১০ জন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এবং ৬ জন পিসিজেএসএস (সংস্কার) গ্রুপের সদস্য।[9]
আমাদের মতে, এই ৬২৭ জনের মৃত্যুর তথ্য কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র (tip of the iceberg) , কারণ এগুলো শুধু মিডিয়ায় আসা খবর। পার্বত্য চট্টগ্রামে পিসিজেএসএস বা অন্যদের হাতে সংঘটিত অধিকাংশ খুনের ঘটনা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে আসে না। এই অঞ্চলে মূলত পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে এক হাজারের বেশি আদিবাসী খুন হয়েছেন।
সংক্ষিপ্ততার খাতিরে, ২০২২ সালের আগস্টের পর পিসিজেএসএস সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে খুনের কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
· ৭ মার্চ ২০২৬: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লতিবান এলাকার বরকোনায় পিসিজেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সদস্য আপন ত্রিপুরা (২৮), যিনি সংগ্রাম নামেও পরিচিত, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।[10]
· ৬ জুন ২০২৫: রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের শুভারঞ্জন কার্বারিপাড়ায় পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে ইউপিডিএফ-এর এক অজ্ঞাতনামা সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এই ঘটনায় প্রজ্ঞা চাকমা নামে পাঁচ বছরের এক শিশু এবং মর্ত চাকমা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্যসহ আরও চারজন আহত হন।[11]
· ১৬ মার্চ ২০২৫: রাঙামাটি জেলার রাঙামাটি সদর উপজেলার খামারপাড়ায় পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে ইউপিডিএফ-এর কর্মী এবং নানিয়ারচর উপজেলার তৈজেংমা গ্রামের বাসিন্দা নির্মল খাসসা ওরফে তারেং নিহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।[12]
· ১৯ মার্চ ২০২৫: খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং হেডম্যান পাড়ায় পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে ইউপিডিএফ-এর কর্মী এবং মায়াকুমার পাড়ার বাসিন্দা অন্তিন ত্রিপুরা সুবি (৩৫) নিহত হন। এই হামলায় তার বোন তারাপতি ত্রিপুরাও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।[13]
· ৩০ অক্টোবর ২০২৪: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার শান্তি রঞ্জন পাড়ায় অজ্ঞাতনামা হামলাকারীদের গুলিতে ইউপিডিএফ-এর তিন সদস্য—সিজন চাকমা, শাসন ত্রিপুরা এবং জইন চাকমা নিহত হন। হামলাকারীরা পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডার বলে ধারণা করা হয়, যারা ঘটনাস্থলেই তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে।[14]
· ৮ জুন ২০২৪: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের দুদকছড়া সীমানাপাড়ায় নিজ বাসভবনে পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে ইউপিডিএফ সমর্থক বরুণ বিকাশ চাকমা (৫৫) নিহত হন।[15]
· ১৮ মে ২০২৪: রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার লংগদু ইউনিয়নের মনপতি এলাকায় পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য তিনক চাকমা (৫০) এবং ধন্যমতি চাকমা (৪০) নিহত হন। দুজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।[16]
· ১১ ডিসেম্বর ২০২৩: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় অজ্ঞাতনামা হামলাকারীদের (অভিযোগ মতে পিসিজেএসএস সদস্য) গুলিতে চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা লিটন চাকমা এবং ইউপিডিএফ সদস্য রুহিন বিকাশ ত্রিপুরা।[17]
· ১৫ মে ২০২৩: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাসিন্দা এবং ইউপিডিএফ সদস্য রূপান্তর চাকমা (৪৭) রাঙামাটি জেলার রাঙামাটি সদর উপজেলার মানিকছড়ি এলাকায় পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে নিহত হন। সাংগঠনিক কাজে নারিছড়ি থেকে চাকরাছড়া যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলেই তাকে হত্যা করা হয়।[18]
উপরে উল্লেখিত হত্যা গুলো বাংলাদেশে দেখা যাই সে ধরণের সাধারণ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। এসব খুনের ঘটনায় একে-৪৭ রাইফেল, মেশিনগান এবং কিছু ক্ষেত্রে রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়। প্রায়ই দেখা যায়, পিসিজেএসএস সশস্ত্র ক্যাডারদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকেন। কেবল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সেনাবাহিনী একজন ক্যাডার নিহত হওয়ার পর পিসিজেএসএস-কে ‘সন্ত্রাসী গ্রুপ’[19] হিসেবে অভিহিত করেছিল।[20] অথচ ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সন্তু লর্মার সাথে সাক্ষাৎ করতে যান।[21] এটি মূলত পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না করার হীন উদ্দেশ্যে ঢাকার একটি সশস্ত্র সংগঠনের প্রতি পৃষ্ঠপোষকতারই বহিঃপ্রকাশ।
যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা সমস্যাগুলো সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত, তাই তথাকথিত ‘অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের’ হুমকি ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।
২.২. ভারত যেখানে পিসিজেএসএস-এর অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে তাদের সশস্ত্র করে রেখেছে
১৯৯৭ সাল থেকে নথিপত্র এবং আদালতের রায়গুলো প্রমাণ করে যে, ভারত সরকার তাদের মাটিতে পিসিজেএসএস এবং অন্যান্য গ্রুপগুলোর অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অনেক বেশি প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার সন্তু লর্মার নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস-কে আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতায় বসিয়ে রেখেছে।
ভারতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
· ৯ মার্চ ২০০৯: ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী পিসিজেএসএস (PCJSS) ক্যাডারদের কাছ থেকে ৩১টি একে-৪৭ রাইফেল, একটি এলএমজি, একটি ব্রাউনিং অটোমেটিক রাইফেল এবং গোলাবারুদ জব্দ করে। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) এই জব্দকরণের ঘটনাটি তদন্ত করে মিজোরামের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। একজন ষড়যন্ত্রকারী খালাস পাওয়ার পর, এনআইএ উচ্চতর আদালত গুয়াহাটি হাইকোর্টে আপিল করে। গুয়াহাটি হাইকোর্ট ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তার রায়ে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পিসিজেএসএস-কে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে।[22]
· ২৮ আগস্ট ২০১৪: ভারতীয় পুলিশ “পাঁচটি এম-১৬ রাইফেল, এম-১৬ এবং একে রাইফেলের ৫১০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০টি সেল ফোন এবং ৬০,০০০ ভারতীয় রুপি” জব্দ করে এবং বাংলাদেশের রাঙামাটির বাসিন্দা জিউস চাকমা (২৮) ও সুমিত্র চাকমা (৪৮) সহ পাঁচজন চাকমাকে গ্রেপ্তার করে। জিউস নিজেকে পিসিজেএসএস-এর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।[23]
· ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ভারতীয় পুলিশ পিসিজেএসএস-এর সদস্য রনি চাকমা (৪৫), অনির্বাণ চাকমা (৩৪) এবং রিবং (২৪)-কে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের কাছ থেকে “দুটি একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল, পাঁচটি মার্কিন তৈরি এম-৪ কার্বাইন, ২০টি ম্যাগাজিন, ৫০৪ রাউন্ড ৭.৬২ মিমি এবং ৪,৬৭৫ রাউন্ড ৫.৫৬ মিমি গোলাবারুদ, সেইসাথে নগদ ৪৯,৫৫০ রুপি, পরিচয়পত্র, সিম কার্ড, এটিএম কার্ড এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন” জব্দ করে। ভারতীয় পুলিশ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে এবং মিজোরামের লুংলেই জেলা ও দায়রা আদালতে এর বিচার প্রক্রিয়া (Sessions Registration/7/2025) চলমান রয়েছে।[24]
· ৪ জুন ২০২৫: ভারতীয় পুলিশ পিসিজেএসএস-এর ১৩ জন ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করে, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংঘর্ষের পর চিকিৎসার জন্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবেশ করে ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিল।[25]
এটি স্পষ্ট যে, ভারত একটি আইনের শাসনে পরিচালিত দেশ হিসেবে পিসিজেএসএস-এর মতো গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত নির্বাচন ছাড়াই ২৮ বছর ধরে সন্তু লর্মাকে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল রেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিচ্ছে।
২.৩. আদিবাসীদের বিচ্ছিন্নতাবাদ একটি কল্পনাপ্রসূত ধারণা
পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা কখনোই বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি তোলেনি। পিসিজেএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা জনাব এম এন লারমা, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে মূলধারার বাঙালি হিসেবে নয়, বরং তার জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বীকৃতি চেয়েছিলেন। পিসিজেএসএস-এর আদি পাঁচ দফা দাবি ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বিষয়ে এবং তারা ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে তাদের দাবিসমূহ মীমাংসা করেছিল।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের আরেকটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) উল্লেখ করেছে যে, “পার্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো শান্তিপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য অধিকার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন লাভের মাধ্যমে শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।”[26]
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ২০২২ সালের জুন মাসে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৬৬ পৃষ্ঠার একটি শান্তি প্রস্তাব জমা দেয়। বাংলাদেশ সরকার এমনকি সেই শান্তি প্রক্রিয়াটি স্বীকার করতেও অস্বীকার করেছিল,[27] যার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তারা যত দিন সম্ভব নির্বাচন ছাড়াই পিসিজেএসএস-কে দাঁত নখ দিয়ে সশস্ত্র রেখে ক্ষমতায় বসিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনের বর্তমান নীতিতেই সন্তুষ্ট।
অতএব, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদ বা আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির প্রশ্নই আসে না। এটি বাংলাদেশ সরকারের দ্বারা নির্মিত এবং পরিচালিত একটি সমস্যা।
২.৪. পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিকায়ন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য হুমকি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের হুমকি ভুল আখ্যান গ্রহণ করলে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা খাত সংস্কার (Security Sector Reform) করতে পারবে না। এটি চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলবে। গণতান্ত্রিক দলগুলোর উচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং নিরাপত্তা সংস্কার নিয়ে নিরাসক্তভাবে ভাবনাচিন্তা করা।
বর্তমানে চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীই গত ২৮ বছর ধরে সন্তু লর্মাকে ক্ষমতায় রেখেছে এবং তাদের পরামর্শেই পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। যতক্ষণ সেনাবাহিনী তাদের এই ‘ভীতি প্রদর্শনের আখ্যান’ চালিয়ে যেতে পারবে, ততক্ষণ কোনো অর্থবহ নিরাপত্তা সংস্কার সম্ভব হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতন্ত্রায়নই বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্কারের জন্য অপরিহার্য।
৩. সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার কমিশনের আওতামুক্ত রাখা ICCPR এবং প্যারিস প্রিন্সিপালস অনুযায়ী অবৈধ
৩.১. ICCPR-এর লঙ্ঘন
যেহেতু বাংলাদেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR) অনুস্বাক্ষর করেছে, তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে NHRC-এর এখতিয়ারের বাইরে রেখে যদি দেশটি নির্দিষ্ট কিছু অধিকার স্থগিত করতে চায়, তবে আইসিসিপিআর-এর অনুসমর্থনকারী পক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে এর ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “জনসাধারণের জরুরি অবস্থা যা জাতির জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে এবং যার অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে” তা ঘোষণা করতে হবে। তদুপরি, এই অধিকার সংকোচন অবশ্যই “আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্যান্য বাধ্যবাধকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম বা সামাজিক উৎপত্তির ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক হতে পারবে না” এবং “অনুচ্ছেদ ৬ (জীবনের অধিকার), অনুচ্ছেদ ৭ (নির্যাতন নিষিদ্ধকরণ), অনুচ্ছেদ ৮ (দাসত্ব ও দাসত্বপ্রথা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ ১ ও ২), অনুচ্ছেদ ১১ (চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থতার জন্য কারাদণ্ড), অনুচ্ছেদ ১৫ (একই অপরাধে দুবার দণ্ড), অনুচ্ছেদ ১৬ (আইনের চোখে সমতা) এবং অনুচ্ছেদ ১৮ (চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা) থেকে কোনো বিচ্যুতি ঘটানো যাবে না।”[28]
বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন এবং এখানে প্রদত্ত তথ্য-প্রমাণগুলো যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে এটিই প্রতিষ্ঠিত করে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাটি কোনো ‘জনসাধারণের জরুরি অবস্থা’ নয়; বরং বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় একজন যুদ্ধবাজকে (warlord) নির্বাচন ছাড়াই আদিবাসীদের শাসন করার অবৈধ সুযোগ দিয়ে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মাধ্যমে সরকারি অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করে একটি কৃত্রিম জরুরি অবস্থা তৈরি করছে। এটি গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনকে অস্বীকার করার একটি দৃষ্টান্ত।
৩.২. প্যারিস প্রিন্সিপালস-এর লঙ্ঘন
প্যারিস প্রিন্সিপালস-এর নীতি ২ অনুযায়ী, একটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য সবচেয়ে ব্যাপক ম্যান্ডেট বা কর্মপরিধি দিতে হয় । এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম (APF) পরিষ্কার করেছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদারকি বা রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশনের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত নয়।[29]
এটি একটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের (NHRI) আওতাভুক্ত এলাকায় সামরিক বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে। অক্টোবর ২০১৮ সালে এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম অফ এনএইচআরআই (Asia Pacific Forum of the NHRIs) উল্লেখ করেছিল যে, “সশস্ত্র সংঘাতের সময় সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে, একটি এনএইচআরআই-এর তুলনায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন প্রয়োগে দক্ষ কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। তবে, এনএইচআরআই-কে এই জাতীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা, সে বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা বা হস্তক্ষেপে সচেষ্ট হওয়া থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। যখন সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনী সংঘাতের কাজে নিয়োজিত নয়, তখন তাদের দ্বারা সংঘটিত কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এনএইচআরআই-এর এখতিয়ারে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত নয়।” [30]
সেনাবাহিনীকে এর বাইরে রাখলে বাংলাদেশ কখনোই মানবাধিকার কমিশনের ‘এ’ স্ট্যাটাস (মর্যাদা) পাবে না।
৪. উপসংহার ও সুপারিশমালা
উপরোক্ত তথ্যাদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, ১৯৯৭ সালের চুক্তির মাধ্যমেই বিদ্রোহের অবসান হয়েছে। বর্তমান সমস্যাগুলো সেনাবাহিনী দ্বারা সৃষ্ট ও পরিচালিত। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি:
• পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীকে প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
• পিসিজেএসএস-এর মতো অবৈধ সশস্ত্র গ্রুপ লালনকারী কোনো রাজনৈতিক দলকে আঞ্চলিক পরিষদ বা জেলা পরিষদের মতো সরকারি সংস্থায় থাকার সুযোগ না দেওয়া এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
• বর্তমানে মনোনীত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরিয়ে জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।
• পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির জন্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সাথে সংলাপে বসা।
• পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং এই ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, পিসিজেএসএস-কে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় রাখা চুক্তির কোনো শর্ত নয়।
• পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সব ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে দায়বদ্ধ করার জন্য নিরাপত্তা খাত সংস্কার করা।
[1]. The CHT Accord can be accessed at UN Peacemaker at https://peacemaker.un.org/sites/default/files/document/files/2024/05/bd971202chittagong20hill20tracts20peace20accord.pdf
[2]. The International Covenant on Civil and Political Rights can be accessed at https://www.ohchr.org/en/instruments-mechanisms/instruments/international-covenant-civil-and-political-rights
[3]. The Paris Principles on the NHRIs can be accessed at https://www.ohchr.org/en/instruments-mechanisms/instruments/principles-relating-status-national-institutions-paris
[4]. The statement of Home Minister Salahuddin Ahmed can be accessed at https://www.youtube.com/watch?v=cMMqZr1zWKo
[5]. Bangladesh Tries to Dampen Ethnic Insurgency With Ballots, The New York Times, 26 Jun 1989, https://www.nytimes.com/1989/06/26/world/bangladesh-tries-to-dampen-ethnic-insurgency-with-ballots.html
[6]. CHT Regional, District Councils, No election in two decades, The Daily Star, 20 July 2018, https://www.thedailystar.net/frontpage/no-election-two-decades-1608802
[7]. Bangladesh rebels training in Mizoram, claims former armed group, The Hindu, 25 January 2024, https://www.thehindu.com/news/national/other-states/bangladesh-rebels-training-in-mizoram-claims-former-armed-group/article67775986.ece
[8]. The CHT Regional Council Act is available at https://faolex.fao.org/docs/pdf/bgd165438.pdf
[9]. Bangladesh: CHT And Violent Factionalism – Analysis, Eurasia Review, 31 August 2022, https://www.eurasiareview.com/31082022-bangladesh-cht-and-violent-factionalism-analysis/
[10].UPDF Member Apon Tripura Shot Dead by PCJSS (Santu) Terrorists in Panchari, 7 March 2026, CHT News, https://chtnews.com/english/2026/03/07/updf-member-apon-tripura-shot-dead-by-pcjss-santu-terrorists-in-panchari/
[11].JSS, UPDF exchange fire in Baghaichhari, Prothomalo, 6 June 2025, https://en.prothomalo.com/bangladesh/crime-and-law/izbzueoic9
[12].UPDF activist shot dead in Rangamati, The Daily Star, 16 March 2025, https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/updf-activist-shot-dead-rangamati-3849561
[13].UPDF member shot dead in Khagrachhari’sMatiranga, Banglanews24, 19 March 2025, https://banglanews24.com/english/national/news/bd/169981.details
[14]. 3 UPDF members shot dead in Khagrachhari, Prothomalo, 30 October 2024, https://en.prothomalo.com/bangladesh/local-news/o1ac98080r
[15].UPDF supporter killed in khagrachari’s Panchari, The Report, 9 June 2024, https://thereport.live/bangladesh/updf-supporter-killed-in-khagracharis-panchari/30386
[16]. 2 UPDF members shot dead in Rangamati, Jagonews24, 18 May 2024, https://www.jagonews24.com/en/national/news/74565
[17].Case filed over killing of 4 UPDF leaders in Khagrachhari, Bangladesh Sangbad Sangstha, 13 December 2023, https://www.bssnews.net/news/163074
[18].UPDF member shot dead in Rangamati, The Daily Star, 15 May 2023, https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/crime-justice/news/updf-member-shot-dead-rangamati-3320151
[19]. Army operation in Bandarban: Arms seized, JSS member held,
24 February 2026, https://www.jagonews24.com/en/national/news/90279
[20]. Army operation in Bandarban: Arms seized, JSS member held,
24 February 2026, https://www.jagonews24.com/en/national/news/90279
[21]. সন্তু লারমার সঙ্গে মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, পাহাড়ের রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা, Jugantor, 3 March 2026, https://www.jugantor.com/country-news/1072980
[22]. The judgment of the Gauhati High Court in the National Investigation Agency Vs. Rohmingliana @ Hmingte @Hminga dated 05.09.2024 can be accessed at https://www.casemine.com/judgement/in/66de966f8497f8199b7c1bfc
[23]. Two Bangladeshi Chakmas among five arrested with huge arms in India, BDNEWS24.Com, 28 August 2014, https://bdnews24.com/bangladesh/two-bangladeshi-chakmas-among-five-arrested-with-huge-arms-in-india
[24]. Mizoram arms haul: 3 held with AK-47s, M4 carbines, The Times of India, 12 February 2025, https://timesofindia.indiatimes.com/city/guwahati/mizoram-arms-haul-3-held-with-ak-47s-m4-carbines/articleshowprint/118188444.cms?val=3728
[25].13 Suspected PCJSS Members Detained Near Agartala, Handed Over to MTF, NEIndia, 4 June 2025, https://neindia.com/13-suspected-pcjss-members-detained-near-agartala-handed-over-to-mtf/
[26]. The Constitution of the UPDF can be accessed at https://updfcht.com/?page_id=630
[27]. Bangladesh rebel group’s offer of peace talks with gov’t welcomed, Aljazeera, https://www.aljazeera.com/news/2022/6/14/bangladesh-rebel-groups-offer-of-peace-talks-with-govt-welcomed
[28]. The International Covenant on Civil and Political Rights can be accessed at https://www.ohchr.org/en/instruments-mechanisms/instruments/international-covenant-civil-and-political-rights
[29]. The Paris Principles on the NHRIs can be accessed at https://www.ohchr.org/en/instruments-mechanisms/instruments/principles-relating-status-national-institutions-paris
[30]. A Manual on National Human Rights Institutions, APF, October 2018, https://ganhri.org/wp-content/uploads/2020/07/Manual_on_NHRIs_Oct_2018.pdf



